
কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে মাছের ঘের নির্মাণ এবং এক্সক্যাভেটর দিয়ে উপকূলের মাটি কেটে বাঁধ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে প্যারাবন নিধন ও মাটি কাটার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিমদাদ মিয়া ঘাট সংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায় স্থানীয় শফি কয়েকদিন ধরে মাছের ঘের সম্প্রসারণের কাজ করছেন। এতে প্যারাবনের গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এক্সক্যাভেটর দিয়ে উপকূলের মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন একর প্যারাবন এলাকায় অসংখ্য গাছ কাটা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ একর উপকূলীয় জায়গা থেকে মাটি কাটা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব কাজ চললেও শুরুতে বন বিভাগের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা বলেন, প্যারাবন উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঢেউয়ের শক্তি কমানো, ভূমিক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলজ প্রাণীর প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্যারাবন কেটে মাছের ঘের সম্প্রসারণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও উপকূলীয় জনপদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিট কার্যালয় থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং এক্সক্যাভেটর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্যারাবন কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শফি। তার দাবি, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল এবং সেখানে আগে থেকেই একটি মাছের ঘের ছিল। ঘেরের বাঁধে পানি ঢুকে যাওয়ায় এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, শফি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্যঘের ইজারা নিয়েছেন। পরে বাঁধে ছিদ্র হয়ে পানি বের হওয়ার অজুহাতে পাশের আরও কিছু জায়গা দখলে নিয়ে নতুন বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের নির্দেশে এক্সক্যাভেটরটি জিম্মায় রাখার পাশাপাশি বাঁধ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর জায়গা দখল ও প্যারাবন কেটে মাছের ঘের নির্মাণ কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশকর্মী দেলওয়ার হোসাইন বলেন, উপকূলীয় প্যারাবন ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত কমানো, ভূমিক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে প্যারাবন ধ্বংস হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উপকূলীয় জনপদে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্যারাবন নিধন বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় প্যারাবন সৃষ্টি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।